সংস্থার লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও কার্যাবলী

এক বা একাধিক বিষয় বা বিভিন্ন কার্যক্রমের সমম্বয়ে পায়রা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন এর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য  হলো মানব কল্যাণ তথা মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষা বিকাশের লক্ষ্যে নিঃস্বার্থ ও মানবিকতার ভিত্তিতে কাজ করা।

পায়রা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন  এর প্রাথমিক লক্ষ্য হলো গ্রামাঞ্চলের স্কুলে অসমর্থ, অনাগ্রহী ও ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় নিয়মিতকরন ও পুনর্বাসনে নিঃস্বার্থ ও বন্ধু ভাবাপন্নভাবে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবামূলক প্রকল্প যেমন- স্টুডেন্ট স্কলারশিপ, স্টুডেন্ট স্পনসরশিপ, স্কুল প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি।

পায়রা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন বিভিন্ন রকম জাতীয় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন সময় যেমন- অগ্নি দূর্ঘটনা, জ্বলোচ্ছাস, বন্যা ভূমিকম্প ইত্যাদি আকস্মিক দুর্যোগে জরুরী ত্রাণ ও স্বেচ্ছাসেবা মূলক কর্ম পরিচালনা/সহযোগিতা করবে।
পায়রা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন এ বিষয়ে তার সদস্যদের দক্ষ প্রশিক্ষক দ্বারা প্রশিক্ষণ দানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মূলনীতিঃ

১.  মানবতা
মানবতা হলো মানব স্বভাবের এমন এক বিকশিত অবস্থা, যে অবস্থায় মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক আর বৈরমূলক থাকতে পারে না। শুত্র“তা পর্যবসিত হয় বন্ধুতায়, প্রতিদ্বন্দিতা সহযোগিতায় এবং এটা কেবলমাত্র বাস্তব মানব স্বভাবের সদর্থক বিকাশ, বাস্তব মানব সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ ধরে আসতে পারে।
তাই আমাদের যাবতীয় কর্মকান্ডের প্রথম মূলনীতি হলো ‘মানবতা’ বা মানববাদি সম্পর্ক ক্রমবিকাশের অনুশীলন।২. শিক্ষা
শিক্ষা বলতে আমরা সেই ধরনের শিক্ষাকেই বুঝব যা মানুষের মানবিক দক্ষতা ও গুনাবলীর বিকাশ সাধন করে। মানুষকে কর্মনিপুন, নৈতিক, দায়িত্বশীল, পরার্থপর এবং আলোকায়িত মননশীল মানুষরূপে গড়ে তোলে। এইরূপ শিক্ষা অর্জনে সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীর সার্বিক সহায়তা দান আমাদের দ্বিতীয় মূলনীতি।৩. ত্যাগ
আমাদের কাছে ত্যাগের মানে হল মানব কল্যানে স্বেচ্ছায় নিঃস্বার্থ শ্রম স্বীকার। মানুষের জন্য মহৎ কোন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে মানবীয় আতœত্যাগ। মানুষের ইতিহাসে মানুষের মহৎ আর বড় অর্জনগুলোর ইতিহাস হলো মানুষের স্বপ্রনোদিত আতœত্যাগের ইতিহাস।
তাই আমাদের সংস্থার তৃতীয় মূলনীতি হল ত্যাগ।

কর্ম এলাকা পরিধি
পায়রা সোশ্যাল সার্ভিসেস এর কর্ম এলাকা হবে সমগ্র বাংলাদেশ। পায়রা সোশ্যাল সার্ভিসেস এর কার্যক্রম উদ্ধোধিত হয়েছে আস্কর আগৈলঝাড়া বরিশাল থেকে। পর্যায়ক্রমিক ভাবে সারা দেশে কর্মপরিচালনা করা হবে। নির্বাহী কমিটি/পরিষদ এ বিষয়ে সদস্যদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে কর্মপরিকল্পনা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করবেন।

শাখা গঠন ও কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত

প্রধান শাখার শাখা সংক্রান্ত নীতিমালা গঠন, অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে অভিন্ন নাম/থিম, লোগো ইত্যাদি এবং অভিন্ন গঠনতন্ত্র, অভিন্ন লক্ষ্য উদ্দেশ্যে শাখা গঠন ও কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
প্রধান শাখার অনুমোদন সাপেক্ষে কোন শাখা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে স্থানীয় ভাবে উপযোগী (গঠনতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন) কিছু “শাখা নীতিমালা” তৈরী করে নিতে পারবেন। তবে কোন শাখাই এমন কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না যাতে করে সংস্থার সুনাম ক্ষুন্ন হতে পারে। এমনতরো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির উদ্ভব হলে প্রধান শাখা অনতিবিলম্বে উক্ত যে কোন শাখাকে বিলোপ করার অধিকার সংরক্ষণ করবেন। সেই সাথে উক্ত শাখা বিলুপ্ত ঘোষিত হবার পরেও কোন শাখা সংস্থার গঠনতান্ত্রিক নীতিমালা পরিপন্থি আচরণ বা কাজ, জনশৃংখলা ও জনস্বার্থ বিরোধী পরিকল্পনা, প্রচার বা কাজ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইন পরিপন্থি কোন কাজের দায় সম্পূর্ণত সংশ্লিষ্ট শাখা অর্থাৎ শাখার সদস্যবৃন্দ/ব্যক্তিবর্গ বহন করবেন।
প্রধান শাখা গঠনতন্ত্রের আওতায় “শাখা নীতিামালা” প্রণয়ন সাপেক্ষে কোন শাখার অনুমোদন দিতে পারবেন।

৬. সাম্য
সাম্য বলতে আমরা এখানে বুঝবো সংস্থার সকল সদস্য ও সংস্থার সকল কর্মকান্ড সমতার নীতি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। অর্থাৎ কোনরূপ বৈষম্য মূলক দৃষ্টিভঙ্গি পোষন করা যাবে না। মূলগত ভাবেই সকল সদস্য নিজেস্ব দক্ষতা অনুসারে সংস্থার বিভিন্ন বৈচিত্রপূর্ণ কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ, আপন দক্ষতার বিকাশ ও প্রয়োগ, দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কিত বিষয়াদিতে সমতা ভিত্তিক সুযোগ লাভ করবেন।
তাই সাম্য আমাদের সংস্থার ষষ্ঠ মূলনীতি।

৭. অহিংসা
অহিংসা বলতে এখানে বিশেষ কোন ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণী, গোত্র, ধনী, নির্ধন, শারিরীক বা মানসিক অসামর্থ বা অন্য কোন কারনে সংস্থার ভিতরে বা বাহিরে কারো প্রতি হিংসা প্রকাশ করা যাবে না। সংস্থার কোন সদস্য অন্য সদস্যদের প্রতি ঘৃনা, বিদ্বেষ বা হিংসাতœক বিষয় বা কর্মকান্ড সৃষ্টির চেষ্টা করলে সংস্থার মূলনীতি অনুযায়ী তিনি সংস্থায় অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
আমরা মনে করি হিংসা যদি মানব স্বভাবের অন্তর্গত কোন বিষয় বা দশা হয় তাহলে শান্তিও মানুষের আকাংখিত বিষয় এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থা ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব সদর্থক ভাবে স্থিতিশীল হতে পারে না। বরং মানুষের হিংসার বাস্তব কারণ অনুসন্ধান ও তা অপনোদন করার মানববাদী প্রচেষ্টাকেই স্বাগত জানানো উচিত। তাই অহিংসা আমাদের সংস্থার সপ্তম মূলনীতি।